রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন
ঈদের জামাত নয়, গাজায় হচ্ছে জানাজা আর কান্না
অনলাইন ডেস্ক
নতুন ঈদের চাঁদ দেখা গেলেও গাজায় কেবল অন্ধকার আর রক্তপাত। ঈদুল আজহার আনন্দে যখন বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা প্রস্তুত, তখন গাজা উপত্যকায় বিরামহীন বোমার শব্দে ভারী বাতাস। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে যেন আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি আগ্রাসন।
বিশ্ব মুসলিম যখন পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন গাজার মানুষ আপনজন হারানোর শোকে বিহ্বল। কেউ মা হারাচ্ছেন, কেউ বাবা, কারও কোলে সন্তানের নিথর দেহ—এই হৃদয়বিদারক চিত্রে ঈদের আনন্দ যেন নিষ্ঠুর পরিহাস। ঈদের জামাত আদৌ হবে কি না, আর হলেও তা কি টিকে থাকবে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে—এই দুশ্চিন্তা নিয়েই বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ঈদের আগের দিন গাজায় চলছে বোমাবর্ষণ।
বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে মৃত্যু আর ধ্বংসের খবর। বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে ঘর-বাড়ি, হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির। বৃহস্পতিবার দিনশেষে মোট হতাহত সংখ্যার নিশ্চয়তা না মিললেও গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৯ জন ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান গণহত্যায় ইসরায়েল কমপক্ষে ৫৪,৬০৭ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন করে ৯৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং আরও ৪৪০ জন আহত। এ নিয়ে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২৫,৩৪১ জনে।
অনেক হতভাগ্য এখনো ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন, কেউ রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা। ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও ভয়াবহ হতে পারে।
১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন হামলা অভিযানে ইসরায়েল ৪,৩৩৫ জনকে হত্যা ও প্রায় ১৩,৩০০ জনকে আহত করেছে। জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর হামলার ভয়াবহতা বেড়েছে কয়েকগুণ।
গণহত্যা থামাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আহ্বানকেও পাত্তা দিচ্ছে না নেতানিয়াহুর সরকার। গাজায় রক্তের নদীর পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও চলছে তল্লাশি, গ্রেফতার আর ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া—সব মিলিয়ে এক নির্মম মানবিক বিপর্যয়।